এনজিও বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ ও ব্যবসার সম্প্রসারণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবন-১-এ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার (সিমিট-CIMMYT)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়েন ক্যালভার্টের (Owen Calvert) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয় এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির চলমান কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ উপস্থাপন করে।
সিমিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে গম ও ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধিতে উন্নত জার্মপ্লাজম, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল জাত উদ্ভাবন, রোগবালাই মোকাবিলা এবং সংরক্ষণশীল কৃষি (যেমন: স্বল্প চাষে বা বিনা চাষে ফসল উৎপাদন) নিয়ে কাজ করছে সিমিট।
এ ছাড়া আন্তঃফসল চাষ, ফসল উৎপাদন-পরবর্তী ক্ষতি হ্রাস, প্রশিক্ষিত খামারিভিত্তিক ‘লিভিং লাইব্রেরি’ (Living Library), অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং (AWD) প্রযুক্তিভিত্তিক কার্বন ট্রেডিং, কৃষকবান্ধব স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংবলিত অ্যাপের ব্যবহার এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে নানাবিধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। তাদের এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় উন্নয়ন এবং কৃষিকে অধিকতর সহনশীল ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সভায় কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডসমূহ মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে পিকেএসএফ ও সিমিট পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
উভয় পক্ষ শীঘ্রই পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণপূর্বক একযোগে কাজ করার এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।