এনজিও বার্তা ডেস্ক
গ্রাহকদের তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে পূর্বনির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা করতে পারেনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সশরীরে সভা করতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে অনলাইন সভার অনুমতি নিলেও, আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে তাও স্থগিত করতে বাধ্য হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার
আজ সকালে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে শত শত গ্রাহক প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তীব্র উত্তেজনা সত্ত্বেও গ্রাহকেরা ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে তাদের অবস্থান বজায় রাখেন।
নিয়োগ বিতর্ক ও আন্দোলনের পটভূমি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে (ঈদের ছুটির ঠিক আগে) ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। ওই রাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খুরশীদ আলম পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নতুন নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের সাথে জড়িত একটি রাজনৈতিক পক্ষ এর বিরোধিতা শুরু করে। এমনকি ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এই নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সশরীরে ব্যর্থ হয়ে অনলাইনের চেষ্টা, সেখানেও বাধা
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা আড়াইটায় নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই গ্রাহকদের চাপের মুখে তা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অনলাইনে সভা করার পরামর্শ দেন। এরপর ইসলামী ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে সভা করার বিশেষ অনুমতি দেয়। তবে এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারী গ্রাহকেরা এমডির কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কোনো সভাই করা সম্ভব হয়নি।
‘২০১৭ সালের মতো দখল করতে দেওয়া হবে না’
আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত গ্রাহক ফোরামের কয়েকজন প্রতিনিধি সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ ও ডিবি কর্মকর্তারা অনলাইনে সভা করার জন্য এমডিকে অবৈধভাবে চাপ দিচ্ছেন। ২০১৭ সালেও ঠিক একইভাবে জোরপূর্বক ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল। আমরা এবার যেকোনো মূল্যে এই চেষ্টা প্রতিহত করব।”
রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
সার্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো ব্যাংকেই এমন রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ মেনে নেওয়া হবে না। একই সাথে রাস্তায় আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না।”