এনজিও বার্তা
১০ জুন ২০২৬, ২:৫২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সন্তান জন্মের পর কর্মজীবী মায়ের নতুন লড়াই

শেয়ার

এনজিও বার্তা ডেস্ক

একটা সময় ছিল যখন নারীদের জীবন সীমাবদ্ধ ছিল ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে। পরিবার ও সংসারের দায়িত্বই ছিল তাদের প্রধান পরিচয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এখন নারীরা ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষা, পেশা, ব্যবসা ও নেতৃত্বের নানা ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তবুও বাস্তবতা হলো- এই পথচলায় অনেক নারীকে প্রতিনিয়ত বৈষম্য, চাপ ও অসহযোগিতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। বিশেষ করে সন্তানের জন্মের পর কর্মজীবী মায়েদের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়।

নারীর জীবনে সন্তানের জন্ম নিঃসন্দেহে আনন্দ ও ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত। একটি নতুন জীবনের আগমন পরিবারে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি মায়ের জীবনে আসে নতুন দায়িত্ব, শারীরিক পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ। যারা কর্মজীবী, তাদের জন্য এই সময়টি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। প্রতি বছর নারী দিবসে আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীরা শুধু পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, এবং তাদের এই পথচলায় নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়।

শরীর ও মনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

শিশুর জন্মের পর প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শরীর ও মনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের পর একজন মায়ের শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। এই সময় অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের অভাবে ভোগেন। অথচ মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর অনেক কর্মজীবী মাকে দ্রুতই কাজে ফিরতে হয়। ফলে শারীরিক পুনরুদ্ধারের সময় না পেয়ে তারা দ্বিগুণ চাপের মধ্যে পড়ে যান।

সময় ও দায়িত্বের ভারসাম্যের লড়াই

সময়ের ভারসাম্য বজায় রাখাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অফিসের দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শিশুর যত্ন, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব। অনেক মা সকালে অফিসের প্রস্তুতি নিয়ে বের হন, আবার সন্ধ্যায় ফিরে শিশুর যত্নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে চলতে গিয়ে তারা নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। এতে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।

শিশুকে রেখে কাজে যাওয়ার মানসিক চাপ

শিশুকে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার বিষয়টি অনেক মায়ের জন্য মানসিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় মায়েরা মনে করেন, তারা হয়তো সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারছেন না। এই অপরাধবোধ তাদের মানসিকভাবে অস্থির করে তুলতে পারে। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার চাপ থাকে। ফলে অনেক নারী এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটান।

কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজন

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি কর্মস্থলে সহায়ক নীতি ও পরিবেশ থাকে, যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি, নমনীয় কর্মঘণ্টা বা শিশুর যত্নের সুবিধা থাকে তাহলে কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সহানুভূতিশীল মনোভাব একজন মাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহ দেয়।

পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

পরিবারের সহযোগিতাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি শিশুর যত্নে অংশ নেন, তাহলে মায়ের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যায়। এতে তিনি নিজের কাজ ও পরিবার-দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।

এসব চ্যালেঞ্জের মাঝেও অসংখ্য নারী সাহস, ধৈর্য এবং ভালোবাসা দিয়ে প্রতিদিন নিজেদের পথ তৈরি করছেন। তারা প্রমাণ করছেন যে মাতৃত্ব ও পেশা দুটাই একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা, সম্মান এবং সমান সুযোগের।

নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়,কর্মজীবী মায়েদের এই সংগ্রাম কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের জন্য সহায়ক ও মানবিক কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের অবদানকে যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। – সূত্র: মিডিয়াম, আমেরিকান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, হিন্দুস্তান টাইমস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে বুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন এমআরএ’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান

এমআরএ-তে ‘মাইগভ প্ল্যাটফর্মে নাগরিক সেবা নিষ্পত্তি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ইবনে সিনায় চাকরি, কম্পিউটারে পারদর্শী হলেই আবেদন করুন

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান বিএপিএলসির

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমল

যে খাবারগুলো খাবেন না রক্তদান করার পর

জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়তে সহযোগিতা করবে পিকেএসএফ, ইফাদ, এফএও ও ডব্লিউএফপি

সন্তান লালন-পালনে ধৈর্য ও বোঝাপড়া জরুরি

পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ সময়োপযোগী ও ইতিবাচক: ডিবিএ

রামিসা হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি জেল আপিল করেছেন

১০

মাদক মুক্ত কালিহাতী গড়তে চাই : জসিম খান

১১

মির্জাপুরে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

১২

বাজেটে বাড়ছে সিগারেটের দাম

১৩

জাতির প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

১৪

সমবায় সমিতি নিবন্ধন করার সহজ আইনি ধাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা

১৫

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরির সুযোগ

১৬

দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান

১৭

এনজিও ও এমএফআই খাতের প্রফেশনাল অনলাইন দর্পণ ‘এনজিও বার্তা’

১৮

সন্তান জন্মের পর কর্মজীবী মায়ের নতুন লড়াই

১৯

কোন বয়সে পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে ভালো থাকে?

২০